সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

গাউন





এক.
মধুর ক্যান্টিনে চা ফুঁকছি। একলা বসে, অসময়ে। ব্যাপারটা সিগারেটের মত, ক্যাফেইন নেবার পদ্ধতি, তবে এতে ফুসফুসের জোরে কিছু বাতাস বের করে দেয়া হয়, চা কে ঠাণ্ডা করতে। বসেছি কাউন্টারের সামনের টেবিলটায়, ভিড়ভাট্টা নেই একদম। আমার চোখ বারবার যাচ্ছে ঐ ওপাশের টেবিলটাতে, যেখানটায় একটা মেয়ে বসে আছে। কিছু খাচ্ছিল হয়তবা, কিংবা কারো জন্য অপক্ষা করছে। হয়তবা বেকার সময়ই কাটাচ্ছে। আমার শেষটা ভাবতেই বেশি ভালো লাগছে। কারন ফুটফুটে চেহারার মেয়েটাও বেশ কবার চেয়েছে এদিকটায়। আমি চা শেষ করলাম, এবং আর এক কাপ চা নিলাম। ফ্রয়েড ভক্তরা এর একরকম ব্যাখ্যা দিতে পারেন। কিন্তু আমার চায়ের নেশা, তাই তৃতীয় কাপ।

চা শেষ করে আমি বিল মিটিয়ে সোজা হেঁটে গেলাম সেই টেবিলটায়। বললাম, তুমি কি জানো, বিল ক্লিনটন ঠিক এ পরিস্থিতিতে কী বলেছিলেন?
মিষ্টি করে মেয়েটা হাসল, আলতো করে মাথা নাড়ল। বলল, লিভিং হিস্ট্রি-র গপ্পো।
আবারো বলল, আমি অরুণা।
আমি কশ্যপ।
এবারে শব্দ করে হাসল অরুণা। জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালো সত্যিকারের নামটা জানতে। বললাম, আমি রাহি।
-ফাইন আর্টস, ফার্স্ট ইয়ার।
-ফিজিক্স, ফার্স্ট ইয়ার।
আমি ফিজিক্সের ছাত্র হয়ে কক্ষনো অধিকার রাখি না মায়াবতি এক ফাইন আর্টসের ছাত্রীর দিকে তাকাতে। পুরো ক্যাম্পাসের বহু সিনিয়রের চোখ সবসময় চোরা দৃষ্টি ফেলে এই ডিপার্টমেন্টের প্রতি। তবু আমি হেসে বলি, আমরা বের হতে পারি। কল্পনার মত সুন্দর করে মাথা নাড়ে অরুণা। আমরা বের হই মধু থেকে।

-একলা চুপচাপ বসে ছিলে যে? অপেক্ষা?

বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

চোখ যখন নিরুপায়

রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে প্রায়ই আমি চোখ থেকে চশমাটা খুলে নেই। হাতে নিয়ে হাঁটি। নইলে দূরে বসে থাকা কোন সুন্দরীর পানে চোখ আটকে যায়। আমি প্রাণপণে চেষ্টা করেও যখন চোখ ফেরাতে পারি না, ঠিক তখনই চশমাটা খুলে নেই। নিজেকে অন্ধত্বের দিকে ঠেলে দিয়ে আমি  মুক্তি নেই।
ব্যপারটা প্রায়ই ঘটছে আজকাল। কোন বান্ধবীকে পছন্দ, চোখ আটকে যাবে। দূরে কাউকে দেখেও চোখ আটকে যাবে। নৈতিকতার অবক্ষয়, নাকি হৃদয়ের কল্পলোকের পরিস্ফুটন? হয়তবা বিস্ফোরণ।

আমি সবসময়ে আমি হতে চেয়েছি। এলো চুল আমার পছন্দের। কাঁধে শাল ঝুলিয়ে হাঁটতে আমার বেশ লাগে। চশমার কাচ ঘোলা হয়ে আসে প্রায়ই, অযত্নে। সেসবে ঢের আপত্তি সবের। প্রেমের জন্য চিঠি লিখতে জানা আমার কাছে আধুনিকতা, সবের কাছে মধ্যযুগীয় ভাবনা। আমার আমি হওয়ায় মানুষের যত আপত্তি আছে, সেগুলোকে আমি প্রায়ই থোড়াই কেয়ার করি। কিন্তু সবসময়ে পারি না।

আহমাদ বলে, মেয়েমানুষ দুরকমের। মায়ের জাত, আর প্রেমিকার জাত। চেনার সরল উপায় হল, প্রেমিকার জাতে বড় চুল ভালোবাসে। আর মায়ের জাতের কাছে বড় চুল অসহ্য, চক্ষুশূল।  আমি ক্লাসের শুরুর দিনগুলোতেই ভাগ দুটো ঠিক ঠিক করে ফেলেছিলাম। কারণ তখন আমার চুলগুলো ছিল ঝাঁকড়া এবং দীর্ঘ। কাঁধে শাল চড়িয়ে ক্লাসে যাই, বসি সবার সামনে। একদিন একজন শিক্ষিকা, যিনি একজন মাও বটে, বললেন ওসব চলবে না। আমার বান্ধবীদের মাতৃত্ববোধ বেরিয়ে এল। ওরা বলল, তোমাকে শাল ছাড়তে হবে, চুল কাটতে হবে। একের পর এক প্রশ্ন ছুঁড়ে চলল, তুমি কেন এমন থাকো? আমি তখন আশেপাশে তাকিয়ে অসহায়ের মত করে মাথা নাড়লাম। আমার নিষ্ঠুর ছেলে বন্ধুগুলো আগেই রুম থেকে বেরিয়ে গেছে। কান্না কান্না চোখে ভাবছি, এরা সবে কি মায়ের জাত? যেমন ছিল ঈশিতা আর রূপা। তখন দেহে প্রাণ ফিরে আসে। মীম বলে, ছেড়ে দে না ওকে। ও যেমন থাকতে চায় তেমনই থাকুক। আমি মীমের প্রতি প্রাণ ভরা কৃতজ্ঞতা নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে আসি।

এবং বিকেলে আমাদের ফজলুল হক মুসলিম হলের পুকুরপাড়ের সেলুনে গিয়ে বলি, চুলগুলো একদম ছোট করে ফেলুন। বেরিয়ে আসতে সোহাগ, শান্ত, আসাদুজ্জামান বলে, এবার একদম ঠিক আছে। আমার ইচ্ছে করে ওদের টুঁটি ছিঁড়ে ফেলি। পরদিন ক্লাসে যাই গায়ে জ্যাকেট চাপিয়ে।

রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম আনন্দভ্রমণে

 দূর-দূরান্তে ঘুরবার আগ্রহ আমার বহুকালের। কখনো একলা ঘুরতে ভালো লাগে, কখনোবা অনেকের সাথে। শুধু দূরে নয়, দিনভর আশেপাশে কাজে-অকাজে ঘুরে বেড়ানোর অভ্যাসটাও আমার খুব বেশি। কম খাওয়া, না খাওয়া আমার প্রায় শূন্য ওজনের একটা কারন হতে পারে, তবে অন্য কারণটা হল দিনভর ছুটে বেড়ানো। যা খাই, তার অনেকটা দখল করে নেয় আমার ভ্রমণপিয়াসু কর্মকান্ড।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার অধ্যায়ন এর শুরু ২০১৭ সালের শুরুতে। আর জানুয়ারিতেই একটা পিকনিক পেয়ে যাওয়া রীতিমত অভাবনীয়। অল্প কয়জনের দেখলাম আগ্রহ নেই এটা নিয়ে তেমন। বাকিরা সবাই মুখিয়ে থাকলাম পিকনিকের তারিখের জন্য। উপরি পাওনা দুদিনের ছুটির ব্যপারটাও মাথায় ছিল সবার। এবং এজন্য যে অতি অপ্রিয় দুটি ক্লাস মিস হবে, সে আনন্দও সচেতনভাবে পাচ্ছিলাম।

আমরা প্রায়ই টিএসসিতে বসি আড্ডা দিতে। সে আড্ডা কখনো বারান্দায় পা বিছিয়ে, কখনো ক্যাফেটেরিয়ার টেবিলে গোল হয়ে, কখনো বাইরের পার্কিং লটে, কিংবা ভেতরের লনে বসে। সে আড্ডায় সব বিষয়কে ছাপিয়ে সবচেয়ে বেশি আসে বন্ধুকে রসাত্মক আক্রমণ। সে আক্রমণের বিষয়বস্তুগুলো সবসময়েই হয় নির্মম, এবং কখনোবা ছাপার অযোগ্য। এছাড়া পড়াশুনার কথা, বইয়ের কথাও কখনো ঘুরেফিরে উঁকি দেয় আমাদের আড্ডায়। সে আড্ডার প্রতিটা মূহুর্ত সবার জন্য আনন্দ উদ্দীপক। আমরা পিকনিকের জন্য মুখিয়ে ছিলাম, হয়তবা পিকনিকে এই আড্ডার আনন্দের বিস্ফোরিত রূপ কপালে জুটবে বলে।

দিনটি ছিল ২৩ জানুয়ারি, প্রথম বর্ষের ছেলেপুলেকে আসতে বলা হয়েছে ভোরবেলাতেই। আমাদের সেসবের বুঝি তেমন তোয়াক্কা ছিল না। হেলেদুলে দুজন, চারজন করে এসে জড়ো হতে লাগল অনেকটা সময়। এসেছেন শিক্ষকেরা, বড়রাও। সবাই মিলে বাসে ওঠার আগে বাধ্যতামূলক ফটোসেশন। অবশ্য সেটাকে সেলফি সেশন বললে তেমন অপরাধ হবে না। এর ফাঁকে পিলো পাসিং খেলার জন্য আনা বালিশটা ধার করে আমি আমাদের ভবনের নিচতলার ওয়েটিং বেঞ্চিতে ঘুমাবার আয়োজন খুঁজি। কিন্তু শোয়ার একটু পরেই এক বেরসিক ছেলে এসে জানায়, বালিশটা এক বড় আপুর বাসা থেকে আনা। কোথায় কী! আমি বালিশ নিয়ে ভো দৌঁড়। রিংকিকে ফিরিয়ে দিয়ে বলি, আমি ভেবেছি বালিশটা তোর। এরপরে সবাই মিলে সেলফি তুলতে শুরু। মেয়েদের কেউ শাড়ি না পরায় আমিও পাঞ্জাবি পরিনি। তবে আয়াত সেসবের তোয়াক্কা না করে ঝলমলে পাঞ্জাবি গায়ে হাজির। তখন মনে হল, আমি কী দোষ করেছিলামরে বাবা!

সেলফিতে মেয়েরা দেখা দেয় শহরের সকল আটা-ময়দার সংগ্রহ নিয়ে। আর আমরা প্রায় সবাইই এলোমেলো সেই ভঙ্গিতে। মিলনের ব্যাগ থেকে বেরোয় সেলফি-স্টিক নামের অতি অদ্ভুত এক উদ্ভাবন।

শনিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৭

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম দিনগুলো

অনেক ছোটবেলা থেকে ইচ্ছে হত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ব। কখনো মনে হত পড়ব বাংলায়, কখনোবা সাংবাদিকতায়। অঙ্কে পড়তে ইচ্ছে হয়েছে, ইচ্ছে ছিল বোটানি পড়বারও। ইচ্ছেগুলো কখনো ফানুসের জন্য জমে থাকেনি, আগ্রহগুলো ছুটেছে স্রোতের মত।

যখন নির্দিষ্ট করে ভাববার সময় হল, মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ  নামে একটা বিষয় পড়ব বলে সিধে হলাম। সেই শখের চ্যারিটি করে বেড়ানো, ইউনিসেফের হয়ে গ্রাম গ্রাম ধরে বদলে দেবার স্বপ্ন, সেসব জেঁকে বসে খুব করে। কিন্তু সেখানে পড়া হবেনা, কঠোর সব পরামর্শ। আমি ঘাড় কাত করে সব শুনে যাই। তারপর ভাবতে হয়, কেমিকৌশলে পড়লে আমি সেদিকে ছুটতে পারব স্নাতকোত্তরে। তারপরে আসে পুষ্টি প্রতিষ্ঠানে পড়ার কথা। আমি আবারও আবিষ্কার করি, আমার সেই স্বপ্নগুলোর আরো কাছে এই বিষয়টা পৌঁছে দিতে পারে। কখনো লজ্জা হত, কারন এদেশে বিষয়টার নামে গার্হস্থ্য অর্থনীতিতে খুব করে পড়াশুনা হয়। ছেলে হয়ে সেখানে কে যায়?

সেই প্রতিষ্ঠানে প্রথম দিনটায় ঢুকেই আমার মন ভালো হয়ে যায়। আমি আমার মন ভালো হওয়ার হাঁটা শুরু করি এদিক ওদিক। আমার যখন মন ভালো থাকে, কিংবা খারাপ থাকে, আমি তিন-চার কিলোমিটার হাঁটি শহরের রাস্তা ধরে।

কয়েক বছর আগে আমি আঙ্গুল গুণে বের করেছিলাম, যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারি, তবে স্নাতক শেষ করে বের হব যখন, তখন একশ বছর বয়স হবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের। আমার কাছে স্বপ্নের চেয়েও বেশি কিছু মনে হতে থাকে সেটাকে। আমি এখন সেই স্বপ্নের খুব কাছে।

পাঠ পরিকল্পনা হাতে পাবার পর শেষ লজ্জাটুকুও আমার দূর হয়, এখানে ঘরোয়া পুষ্টি প্রকল্প নিয়ে পড়তে আসিনি আমি। অণুজীববিজ্ঞান, রসায়ন, ব্যাবচ্ছেদ বিদ্যা, অর্থনীতি, মানব পুষ্টি, শরীরবিদ্যা, জীব-রসায়ন এর মত সব বিষয়ই পড়তে হবে এখানে। নেই ঘরোয়া পুষ্টির একটুখানি পড়াও। পাবলিক হেলথ এর পড়াও অনেক। পড়তে শুরু করলাম, এবং এবছরের জন্য পড়াশুনার কথা এখানেই শেষ।

প্রথম দুয়েকটা দিন অনেকটা চুপ করেই কাটে। তারপর শুরু হয় নানারকম আনন্দ। আমরা ধীরে ধীরে অনেককে তুই বলতে শিখি। ক্লাস করে হাঁটতে হাঁটতে টিএসসিতে গিয়ে বসি। অনেকক্ষণ করে গল্প করি, আর মাঝে মাঝে দুপুরে খেতে বসি ক্যাফেটেরিয়ায়। সেই অল্প একটু ভাত, একটুখানি আলু ভর্তা, আর মুরগির মাংস। মুরগির প্রতিটি টুকরো এত ছোট হতে পারে কখনো ভাবিনি। মাঝে মাঝে খেয়েছি এমন ছোট টুকরোর রান্না, তবে অন্ততর পাঁচ-সাত টুকরো। কখনোবা গলার এক টুকরো পরে পাতে। ঝোল থাকে স্বচ্ছ, বাটি ভরা। তাই দিয়ে আধপেট খেয়ে বলি, হল তো লাঞ্চ, এবার আড্ডায় বসি।

প্রথম দিককার আড্ডায় পাই ছেলেদের দল থেকে শ্রাবণ, মিলন, তানজির, জায়েদ আয়াতদেরকে। আর মেয়েদের মধ্যে অন্তরা, আমেনা, রিংকি, মীম। প্রথম দুয়েক সপ্তাহ এর আড্ডায় ঘুরেফিরে এই কজনের সাথে আরো দেখা যায় অনেককে। আস্তে আস্তে আড্ডার প্রবণতা আর বাড়ে। সবাই যোগ দিতে শুরু করে আড্ডায়। আমরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে কাটাতে শুরু করি আমাদের সময়গুলো।

এর মধ্যেই চলে আমার অনেক পছন্দের কাজ। বিজ্ঞান লেখা, এদিক ওদিক ছুটে বেড়ানো থাকে মূল আকর্ষণ। 

[অসমাপ্ত! আমি দুঃখিত, একটা লেখা ছেড়ে একবার উঠলে, মন খারাপে কিছু সময়ে ডুবলে সেটা আর কখনো লেখা হয়ে ওঠে না। এটা আর কখনো লেখা হবেনা। এরকম কিছু ডায়েরি ঘেটে পরে কখনো লিখব। ] 

শনিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

অভিমান



স্মৃতিসৌধের শেষ মাথায়, কয়টা পলাশ গাছ আছে। পলাশের বসন্ত ভালো লাগে। তাই হয়ত বসন্ত এলে রাস্তাটাকে সে চাদরে ঢেকে দেয়। লেকটা যেখানে ঘুরে গেছে, সেখানটায়ই গাছগুলো দাঁড়িয়ে আছে। বসন্তে এই এলাকাটা একদম কমলা হয়ে থাকে। সেই কমলা চাদরটার টানেই হয়ত প্রতি বসন্তে নিয়মিত এসে বসে থাকি জায়গাটায়। এবছর শুরুটাই করলাম শীতে।
প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এল। এপাশটা ভোর, সকাল, সন্ধ্যা; সবসময়েই নির্জন। হয়ত শুধু পলাশ ফুল না, নির্জনতাটাও আমাকে টানে। এক দিকে ফিরলে জল দেখতে পাব, সেখানে শাপলা কিংবা পদ্ম ভাসবে, অন্যদিকটায় ফিরলে ডাঙ্গা দেখতে হবে, তবে সে ডাঙ্গা ছেয়ে আছে পলাশে। তাই আমি লেককে উপেক্ষা করে অন্যপাশে ফিরে থাকি। আজও তেমনটা আছি।
যাবেন?
কোমল স্বরের একটা নারীকণ্ঠ। এক শব্দের বাক্যে মায়াবি একটা টান আছে। টানটা এত বেশি, অন্যমনস্কতা টুপ করে বলিয়ে বসতে পারে, যাব। আমি তবু তাকালাম।

রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

ঝরকে ঝরকে ঝরিছে বকুল



 “সব ছেড়ে চলে এলে?”
“এলাম।”
“তুমি তো বলতে তুমি নৈরাশ্যবাদী, ভীতু।”
“তবু তো এলাম। ওটা বকুলের মালা নাকি?”
“হু। দেখেছ কেমন সুবাস?”

বুধবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৬

দীর্ঘশ্বাস


কী রাঁধছ?’  
আমার স্ত্রীর ছোট্ট মেসেজ ফোনে ভেসে উঠল। আমার খানিকটা দুশ্চিন্তা হল। উত্তর দিতে হবে, এবং কিছু একটা মিথ্যে বলতে হবে। কারন আমি এখনো বিছানায় শুয়ে একটা বই পড়ছি। দুপুর যদিও দুইটা বাজে, মুখও ধোয়া হয়নি। ফিজিক্সের শিক্ষিকা বিয়ে করার নানারকম ঝামেলা। ভ্রু কুঁচকে বকাবকি করতে তাঁদের একদম মায়া হয় না। আমি অকম্মা, ঘরে বসে দু চারটা কলাম লিখি পত্রিকায়, আর লবণাক্ত-আর্সেনিক আক্রান্ত এলাকায় পানির সমস্যা সমাধান নিয়ে নানারকম কাজ করি। এই কিছুদিন ইউনিসেফ এর সাথে কাজ করলাম,

শৈশবের তালপুকুরওয়ালা বাড়ি

আমরা যখন খুব ছোট ছিলাম, তখন তেমন দুষ্টুমি শিখিনি। এর একটা কারন হয়ত বাবা শিক্ষক, এবং তাতে বাসার পরিবেশটা অন্যরকম ছিল। দুষ্টুমির জন্য বকা খাওয়ার ব্যাপারটা একদম মনে পড়েনা। শুধু দুপুর বেলা যখন মা ঘুমোতেন, তখন অভ্যাস ছিল আস্তে করে উঠে গিয়ে খেলতে বসা। বাড়ির বাইরে যেতাম না। বিশাল বাড়ির কোন এক কোনে কিছু একটা খেলা আবিষ্কার করে সেই খেলায় মত্ত হতাম। ধুলোবালি মাখা অন্যতম অভ্যাস ছিল। আমার মনে পড়ে আমার তেমন খেলনা ছিল না। নিজের কোন প্রিয় খেলনার কথা আপাতত মনে করতে পারছি না। ছয়-সাত বছর বয়সের খেলনা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে মনে করতে পারি ইয়ো-ইয়ো। মাঝে মাঝেই ইয়ো ইয়ো কিনতাম। এছাড়া তেমন কিছু না। খুলনা শহরের আমাদের ঐ বাড়িতে একটা পুকুর আছে। গত দশ-পনের বছরে নানা ভাড়াটিয়ারা সেই পুকুরটার যে হাল করেছে, এখন গেলেই খুব মন খারাপ হয়। পুকুরপাড়ে ছিল তালগাছ, সেটায় আলো পড়ছেনা বলে তেমন বড় হচ্ছেনা। আরেকটা ছিল ছফেদা গাছ। সেই পুকুরে সারা বছর পানি থাকত। বর্ষাকালে খুব বৃষ্টি হলে পানি থৈ থৈ করত। কখনো পানি উঠে ঘরের দেড়গোড়া পর্যন্ত চলে আসত, আমরা জানালায় বসে দেখতাম সেটা মনে পড়ে।

রবিবার, ২১ আগস্ট, ২০১৬

হেই টিচার, লীভ আস কিডস এলোন!


"হেই টিচার! লীভ আস কিডস এলোন"
হাতুড়ি মেরে জীবনটা পঙ্গু করে দিতে কে বলেছে আপনাদেরকে? আপনাদের জীবিকা। তাই বলে এত নির্লজ্জভাবে? পিংক ফ্লয়েড ব্যান্ডের গানগুলো মুগ্ধ হয়ে দেখছি। প্রিয় শিক্ষকেরা, আপনারা বাবার মত, তবে সৎ বাবা।
ভেবেছিলাম রেজাল্ট নিয়ে লিখবনা কিছুই। কিন্তু তা হল না। প্রচন্ড রাগ লাগছে। আমি এই মাত্রার লুজার নই যে এই অসহ্য রেজাল্ট আমার নামের পাশে দেখতে হবে। পরীক্ষা দিয়েছি জান বের করে। সত্যি কথা হল, এই টর্চার সহ্য করতেই খেটেখুটে পড়েছি অনেক। শেখার ইচ্ছে থেকে খুব অল্প কয়টা কিছু পড়েছি। হলটা কী? একটু থমকাতে পারি, একটা বিষয়ে একটুখানি ঝামেলা হতে পারে। তবে চারটা বিষয়ে ছিটকে পড়ার মত লুজার কোনকালে আমি ছিলাম বলে মনে পড়েনা।

আমাদেরকে মেশিনে ঢুকিয়ে পিষে নুডলস বানাতে আপনাদের কেমন আনন্দ হয়, তা দেখতে ইচ্ছে করে। আপনার ছেলেমেয়েদেরকে যখন আপনার মতই শিক্ষা-পেশাজীবিরা পিষে দেয়, খুব ভালো লাগে? আমার বাবা একজন শিক্ষক। তিনি তার হাজারো শিক্ষার্থীকে এমনভাবে টর্চার করেননি কোনকালে। তাই তাঁর কাছে আপনাদের পিষুনি খুব একটা মধুর লাগার কথা না। তবে তিনি যেহেতু প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বও পালন করেছেন জীবনে, নানা জায়গায় নানারকম শিক্ষকদের সাথে কাজ করেছেন, এমন দেশ থেকে শিক্ষক ট্রেইনিং নিয়েছেন, যে দেশে এই নির্লজ্জ খেলা নেই, তিনি জানেন শিক্ষকরা কেমন হয়। তবু সব শেষে এসব তাঁর কাছে অসহ্য।

এই আমি ক্লাস এইটে থাকতে সবচেয়ে ভালো বুঝতাম অংক আর বিজ্ঞানটা। বিজ্ঞানের পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে একটা বাক্য বলেছিলাম, "শ্লা যা লিখেছি! আইনস্টাইন আসলেও পঁচানব্বুই এর নিচে নাম্বার দিতে পারবেনা"।

সোমবার, ৮ আগস্ট, ২০১৬

একটি সুখি বাঘের আত্মকাহিনী

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ টাইগার মোবাইলস





শুরুর আগে
আমি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি, তখন একটা গল্প লিখেছিলাম, বেশ মন খারাপের গল্প। তখন শিকারীদের হানাদার মনোভাবে বাঘেরা ছিল বড় দুঃখী। সেই গল্পটা পড়ে এই গল্পটা শুরু করতে হবে। গল্পটা পাওয়া যাবে নিচের লিংকে- 

গল্পটা
সেই বাঘেরই মাসি। তাদের এখন সুখের সীমা নেই। তবু তো কিছু দুঃখ থাকে। তাতে কী? দুঃখ তো মানুষেরও আছে। মাসির মেয়েটা হয়েছে বড় চটপটে। কাজে মন নেই, ঘরকন্নায় মন নেই, বিয়েটাও দিতে পারছেন না। মাসি কাল বললেন, বিদ্যুৎ বিলটা দিয়ে আসতে, তাতেও তার আপত্তি। শুধু পারে মুখে লাল রঙয়ের মেকআপ মেখে মস্ত বীর সেজে ঘুরে বেড়াতে, যেন এইমাত্র এক হরিণ শিকার করে এল। আর এসেছে গরমকাল। একটু পরপর লোডশেডিং। অতিষ্ঠ হয়ে পড়তে হবে যে! মাসির কর্তা ঠ্যাঙয়ে রশি বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে দুটো বানর নিয়ে এসেছেন বাজার থেকে। লাবণি পয়েন্টে বড় বাজার বসে হরিণের-বানরের। আজ যে হাটবার। 

সন্ধ্যা হয়ে আসছে, এখনো বিদ্যুৎ আসার নাম নেই। রাত হলেই মশাগুলো বড় জ্বালাতন করে। ধুপ না জ্বাললে গুহায় টেকার উপায় নেই। এই মানুষগুলো হল পাজির পা-ঝাড়া। তাদের বসতিতে লোডশেডিং তো দূরের কথা, দিনের বেলায়ও বাতি জ্বলে। অথচ বনবাসীদের কোন অধিকার যেন নেই। ওদের জমি দখল করে মস্তবড় ইঞ্জিন বসিয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনের, অথচ