ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার অধ্যায়ন এর শুরু ২০১৭ সালের শুরুতে। আর জানুয়ারিতেই একটা পিকনিক পেয়ে যাওয়া রীতিমত অভাবনীয়। অল্প কয়জনের দেখলাম আগ্রহ নেই এটা নিয়ে তেমন। বাকিরা সবাই মুখিয়ে থাকলাম পিকনিকের তারিখের জন্য। উপরি পাওনা দুদিনের ছুটির ব্যপারটাও মাথায় ছিল সবার। এবং এজন্য যে অতি অপ্রিয় দুটি ক্লাস মিস হবে, সে আনন্দও সচেতনভাবে পাচ্ছিলাম।
আমরা প্রায়ই টিএসসিতে বসি আড্ডা দিতে। সে আড্ডা কখনো বারান্দায় পা বিছিয়ে, কখনো ক্যাফেটেরিয়ার টেবিলে গোল হয়ে, কখনো বাইরের পার্কিং লটে, কিংবা ভেতরের লনে বসে। সে আড্ডায় সব বিষয়কে ছাপিয়ে সবচেয়ে বেশি আসে বন্ধুকে রসাত্মক আক্রমণ। সে আক্রমণের বিষয়বস্তুগুলো সবসময়েই হয় নির্মম, এবং কখনোবা ছাপার অযোগ্য। এছাড়া পড়াশুনার কথা, বইয়ের কথাও কখনো ঘুরেফিরে উঁকি দেয় আমাদের আড্ডায়। সে আড্ডার প্রতিটা মূহুর্ত সবার জন্য আনন্দ উদ্দীপক। আমরা পিকনিকের জন্য মুখিয়ে ছিলাম, হয়তবা পিকনিকে এই আড্ডার আনন্দের বিস্ফোরিত রূপ কপালে জুটবে বলে।
দিনটি ছিল ২৩ জানুয়ারি, প্রথম বর্ষের ছেলেপুলেকে আসতে বলা হয়েছে ভোরবেলাতেই। আমাদের সেসবের বুঝি তেমন তোয়াক্কা ছিল না। হেলেদুলে দুজন, চারজন করে এসে জড়ো হতে লাগল অনেকটা সময়। এসেছেন শিক্ষকেরা, বড়রাও। সবাই মিলে বাসে ওঠার আগে বাধ্যতামূলক ফটোসেশন। অবশ্য সেটাকে সেলফি সেশন বললে তেমন অপরাধ হবে না। এর ফাঁকে পিলো পাসিং খেলার জন্য আনা বালিশটা ধার করে আমি আমাদের ভবনের নিচতলার ওয়েটিং বেঞ্চিতে ঘুমাবার আয়োজন খুঁজি। কিন্তু শোয়ার একটু পরেই এক বেরসিক ছেলে এসে জানায়, বালিশটা এক বড় আপুর বাসা থেকে আনা। কোথায় কী! আমি বালিশ নিয়ে ভো দৌঁড়। রিংকিকে ফিরিয়ে দিয়ে বলি, আমি ভেবেছি বালিশটা তোর। এরপরে সবাই মিলে সেলফি তুলতে শুরু। মেয়েদের কেউ শাড়ি না পরায় আমিও পাঞ্জাবি পরিনি। তবে আয়াত সেসবের তোয়াক্কা না করে ঝলমলে পাঞ্জাবি গায়ে হাজির। তখন মনে হল, আমি কী দোষ করেছিলামরে বাবা!
সেলফিতে মেয়েরা দেখা দেয় শহরের সকল আটা-ময়দার সংগ্রহ নিয়ে। আর আমরা প্রায় সবাইই এলোমেলো সেই ভঙ্গিতে। মিলনের ব্যাগ থেকে বেরোয় সেলফি-স্টিক নামের অতি অদ্ভুত এক উদ্ভাবন।






