রাতে, যখন প্রজাপতি তারাটা ডুবে যায়,
তখন আমার রাত শুরু হয়। তার আগ পর্যন্ত মানতে কষ্ট হয়, আমি বেঁচে আছি। নিজেকে অপমান করতে ইচ্ছে হয়। এসব খেয়াল। প্রয়োজন নেই
এসবের। আমার প্রয়োজন স্বেচ্ছাচারী হয়ে বেঁচে থাকা। স্বেচ্ছাচারিতা আমাকে আনন্দ দেয়
না, দুঃখ দেয়। তবে সেটা আমাকে আর সবার সাথে তাদের মত হয়ে
মিশতে সাহায্য করে। এমন করে দেয়, যাতে কিছু কাছের মানুষ আমার
দিকে তাকিয়ে বলতে পারে, "কটা দিন আগেও তুই অনেকটা ভালো
ছিলি। এখন কেমন যেন হয়ে গেছিস।" এই যে কয়টা দিন আগের গল্প, সেটা চলছে, এবং চলতে থাকবে অনেকক্ষণ, অনেকটা বছর ধরে, বারবার। নানা জনের কাছ থেকে
নানাভাবে এই বাক্যটা শুনতে শুনতেও অভ্যস্ত হতে পারিনি। অস্বস্তি নিয়ে বারবার শুনছি,
শুনে যাচ্ছি।
এই
আকাশে আমার কি মুক্তি আদৌ আছে? আমার আকাশগুলো সবসময়ে ঝাপসা হয়ে আসে এসবে, এসব
দুঃখে। আমি কোনগুলোকে আলো বলব? কোন আলো তো কোথাও সেকেলে,
কোথাও অন্ধকার। আলোর খোঁজ তবে কেমন করে করতে হয়? আমাকে জানতে হবে।
আমি
সবসময় মানুষের বিশ্বাস অর্জনে অনেক ছুটেছি। সেই বিশ্বাস-আস্থা কখনো অনেক বেশি গাঢ়
হয়েছে। কিন্তু আজকাল সেই আস্থাকে অক্ষত রেখেই মানুষ নিজেকে বুঝ দিচ্ছে, আমি মানুষটা অসহ্য। সহ্যের
সীমানায় কেউ ঝুলে থাকছে, কেউ আর দূরে যাচ্ছে, সীমানাটাকে পাড়ি দিয়ে।
আমি
অনেককে একটা গল্প বলি, যেটার শেষ বাক্য হল, 'বাবা-মায়েরা যথেষ্ট ম্যাচিউরড
হয়েছেন। তারা আর বড় হবেন না।' এই গল্পটা কয়টা দিন আগ পর্যন্ত
দুঃখ নিয়ে বলতাম। এখন বলি এমন করে, যেন নিজেই বিশ্বাস করতে
পারি, আমাদেরও ম্যাচিউরড হতে হবে, তাদের
মত করে। অন্য
সব পথ হয় ভুল, কিংবা আমরা ভুল করছি। গোলমেলে ব্যাপারটা খুব।
আমার
মনে পড়ছে, যেসবকে
একসময় হাস্যরস দেখা হয়েছে, সেগুলোকে এখন অপমান বলে ধরা
হচ্ছে। অপমানের মাত্রাটাও বড়। 'গায়ে লাগা' শব্দগুচ্ছ এখানে ব্যবহার করা যেতে পারে, কিংবা করা
হয়। অথচ, কথাগুলো আগের মত আছে। একটা জিনিসই বদলেছে শুধু। সেই
জায়গা থেকে যদি এগুলোকে যদি এখন অপমানের খোরাক বলে ধরে নেয়া হয়, তবে যে নিচ্ছে, তার বোঝা উচিৎ তার ভাবনা সঙ্কুচিত,
সংকীর্ণ। জানি, আমাকে ছোট মনের ভাবা হচ্ছে
এতে। ঠিক সেটাই প্রশ্ন। ঐ একটা ব্যাপার বদলে যাওয়াটা কি আমাকে ছোট করতে যথেষ্ঠ?
আমি সেই আমি আছি, এতটুকু আমার জানা আছে। নিজের
চাপ কমাতে হলেও কিছু নিষ্ঠুর সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সেটা আমাকে নিতে বলা হচ্ছিল
দীর্ঘদিন ধরে। সেই সিদ্ধান্তে আসবার পরই সবকিছু গায়ে লাগার গল্প শুনতে হচ্ছে
আমাকে। সহ্যসীমা অনেক দূরে নিতে হবে আমাকে। নইলে ঐ নিজেকে কষ্ট দিয়ে হাসিমুখ রাখতে
হবে।
মুক্তি
আলোতে থাকে বলেই আমরা অন্ধকারে ছুটি। ছুটতে ছুটতে কখনো বুঝি, মুক্তি প্রয়োজন। সেই মুক্তি আসে অনেক ধীরে। এবং
মুক্তির জন্য প্রয়োজন পড়ে আরো অনেক অন্ধকারের। সেই অন্ধকারে ঢুকে পড়ি, তাই আলো আর আসেনা। কখনো আসেনা। আমরা অন্ধকারের যাত্রী। রত এতটা গভীর হতে
অপেক্ষা করি এই বসন্তে, যেন প্রজাপতি তারাটা ডুবে যায়। এবং
তখনই আমার রাত শুরু হয়। হৃদয়ে আসে আমার অন্ধকার। হৃদয়ের অন্ধকার!
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন